পুলিশের নাম করে আর্মি অফিসার পরিচয় দিয়ে এক যুবতীর কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্ৰেফতার তৃনমূল ছাত্র পরিষদ নেতা। এই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকায়।পুলিশ সূত্রে জানা যায় ওই ধৃত যুবকের নাম সোহেল আখতার(২৫)।বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বরুই গ্রাম পঞ্চায়েতের শিমুলিয়া নন্দিবাটি গ্রামে।অভিযোগকারী তরুণীর নাম সারবানু খাতুন।তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।জানা যায়, ধৃত যুবক সোহেল আখতার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের তৃনমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের সহ সভাপতি পদে রয়েছে। প্রতারিত যুবতী জানান, গত ৩ রা সেপ্টেম্বর হরিশ্চন্দ্রপুর থানার রামশিমূল গ্রামে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে সে।এরপর হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় প্রেমিক ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।কেস দায়ের হতেই যুবতীকে অপহরণ করে মেরে ফেলার হুমকি আসতে শুরু করে বিবাদীর পক্ষ থেকে।নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন যুবতী।এরপর তার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে ওই যুবক তাকে আর্মি অফিসার পরিচয় দিয়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নাম করে তার কাছ থেকে তিন দফায় ২৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।রবিবার আরো ৪২ হাজার টাকা দাবি করে ওই যুবক।যুবতী প্রতারনার স্বীকার হয়েছে বুঝতে পেরে এদিন মা ও ভাইকে সঙ্গে নিয়ে কাপাইচন্ডি এলাকায় টাকা দিতে আসলে যুবককে হাতে-নাতে ধরে ফেলে স্থানীয়রা।খবর দেওয়া হয় হরিশ্চন্দ্রপুর থানায়।পুলিশ যুবককে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরায় টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে যুবক। এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে আইন আইনের পথেই চলবে।

অভিযোগকারী সারবানু খাতুন বলেন, আমি থানায় কেস করতে এসেছিলাম। সেই সময় নিজেকে সেনা পরিচয় দিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশদের বলে আমার কেস সামলানোর কথা দিয়ে টাকা নেয়। আবার চেয়েছিল চল্লিশ হাজার টাকা। আমি আমার বাড়ির লোকদের বলি। তারপর তাকে ধরা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাতিন বলেন, আমরা দেখতে পাই পাশে একটি মেয়ে এবং বেশ কয়েকজন রয়েছে। তাদের মধ্যে কিছু কথা চলছে। তারপর আমরা সমস্ত বিষয়টা বুঝতে পেরে ছেলেটিকে আটকে রাখি।

বিজেপির দক্ষিণ মালদা জেলার সাংগঠনিক সভাপতি পার্থ সারথি ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে রাজ্য জুড়ে চুরির বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। সেখানকার এরা সবাই ছাত্র। তাই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মালদা জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, অভিযুক্ত ছেলেটি আগে আমাদের ব্লকের সহ-সভাপতি ছিল নতুন কমিটিতে সে নেই। সে যদি সত্যি দোষী হয় সে ক্ষেত্রে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। প্রশাসন তার নিজের কাজ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 1 =